প্রচ্ছদ » Slider » মডেল-অভিনেত্রীদের টার্গেট করা হ্যাকার সামির গ্রেফতার

মডেল-অভিনেত্রীদের টার্গেট করা হ্যাকার সামির গ্রেফতার

Posted By:নিজস্ব প্রতিবেদক | Posted In:Slider,আইন আদালত,বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি,ব্রেকিং নিউজ | Posted On:May 30, 2019
mosad_hacker

টুডেবার্তা ::

পড়াশোনা না করেও প্রযুক্তি-বিষয়ক জ্ঞানার্জন করেছে নিজে নিজেই। সেই জ্ঞান ভালো কাজে না লাগিয়ে শুরু করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড। তিনটি হ্যাকার গ্রুপের হয়ে কাজ করতো সে। তার টার্গেট ছিল মডেল আর উঠতি বয়সী অভিনেত্রীরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যে পরিচয় দিয়ে তাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব ও  মাঝে মধ্যেই চ্যাট করত। পরে কৌশলে তাদের ফেসবুক আইডি হ্যাক করে নিত নিজের দখলে। অর্থ না দিলে অশ্লীল ছবি বা লেখা পোস্ট করার ভয় দেখাতো। এভাবে গত এক বছরে সে অন্তত ৩০ জন মডেল-অভিনেত্রীর ফেসবুক আইডি হ্যাক করে অর্থ আদায় করেছে। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। সর্বশেষ মিস ওয়ার্ল্ড ২০১৮-এর প্রথম রানার্সআপ নিশাত নাওয়ার সালওয়ার ফেসবুক আইডি হ্যাক করে। দশ হাজার টাকা নিয়েও আইডি ফেরত না দিয়ে শুরু করে টালবাহানা। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্রাইম ডিভিশনের দ্বারস্থ হন নিশাত। তার অভিযোগের পর বুধবার বিকালে খিলক্ষেত থেকে আলোচিত এই হ্যাকারকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্রাইম ডিভিশনের সিনিয়র সহকারী কমিশনার ইশতিয়াক আহমেদ জানান, নিশাত নাওয়ার সালওয়ারের অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রযুক্তির সহায়তায় মাসুদকে সনাক্ত করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে নিয়মিত উঠতি মডেল ও অভিনেত্রীদের ফেসবুক আইডি হ্যাক করার কথা স্বীকার করেছে। তাকে রিমান্ডে এনে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত পড়াশোনা করলেও গ্রেফতার হওয়া হ্যাকার সামির আল মাসুদ নিজেকে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচয় দিত। ইন্টারনেট ঘেঁটে নানারকম টিউটেরিয়ালের ভিডিও দেখে দেখে সে হ্যাকিং শেখে। তারপর টার্গেট করতে থাকে উঠতি নারী মডেল ও অভিনেত্রীদের। প্রথমে তাদের ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়ে বন্ধুত্ব তৈরি করে। এরপর বিভিন্ন কৌশলে টার্গেট করা মডেল-অভিনেত্রীদের ব্যক্তিগত তথ্য জেনে নিত এবং সফটওয়্যার ব্যবহার করে টার্গেটকৃত ফেসবুক আইডির নামে নকল একটি জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) তৈরি করা হতো। একই সঙ্গে জিমেইল অ্যাকাউন্ট খুলে তারকাদের ফেসবুক আইডিটি নিজের নিয়ন্ত্রণে নিত।

সাইবার ক্রাইমের কর্মকর্তারা জানান, ফেসবুক আইডি নিজের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর তার প্রথম কাজ ছিল ওই অ্যাকাউন্টের ইনবক্সে থাকা ব্যক্তিগত ও স্পর্শকতার তথ্য বা ছবি সংরক্ষণ করা। পরে সেসব ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে অর্থের বিনিময়ে আইডি ফেরত দেওয়ার প্রস্তাব দিত। ফ্যান-ফলোয়ার বা জনপ্রিয়তা অনুযায়ী নির্ধারণ করা হতো অর্থের পরিমাণ।

পুলিশ কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদে সামির আল মাসুদ জানিয়েছে, টার্গেটকৃতদের কাছ থেকে সে ১০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত নিয়েছে। অনেকের কাছ থেকে টাকা নিয়েও আইডি ফেরত না দেওয়ার কথাও স্বীকার করেছে সে।

সাইবার সিকিউরিটির কর্মকর্তারা জানান, সামির জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে, এর আগে সে অভিনেতা ইরেশ যাকের, অভিনেত্রী তমালিকা কর্মকার, মারিয়া নূর, পূজা চেরী, শারলিনা হোসেন, শাহতাজ মুনিরা হাশেমসহ অনেকের ফেসবুক আইডি হ্যাক করেছিল।