প্রচ্ছদ » স্বাস্থ্য » বেতন পরিশোধ না করে সাভারের গ্রীন হাসপাতাল বন্ধের পায়তারা

বেতন পরিশোধ না করে সাভারের গ্রীন হাসপাতাল বন্ধের পায়তারা

Posted By:নিজস্ব প্রতিবেদক | Posted In:স্বাস্থ্য | Posted On:Feb 01, 2019
savar_anam medical

জাহিন সিংহ, সাভার থেকে: সাভারে একটি হাসপাতালে কর্মচারী ও স্টাফদের বেতন পরিশোধ না করে প্রতিষ্ঠান বন্ধের চেষ্টার বেতন পাওয়া নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। এমতাবস্থায় দিশেহারা প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

অভিযোগ উঠেছে হাসপাতাল কর্তপক্ষের বিরুদ্ধে। প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাচ্ছে তবে মাসের পর মাসের বকেয়া

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সাভার পৌর এলাকার গেন্ডায় অবস্থিত সাভার গ্রীন হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনিস্টিক সেন্টার নামক এই প্রতিষ্ঠানে সামনে ঝুলছে ভবন ভাড়া দেওয়া হবে এমন বিজ্ঞপ্তি। তবে এ ব্যপারে কিছুই জানেন না পাসপাতালের কর্মচারীরা। কতৃপক্ষকে জিজ্ঞাসা করেও কোন সদোত্তর পাওয়ায় মালিকপক্ষ তাদের পাওনা বেতন পরিশোধ না করেই পালিয়ে যাওয়া চেষ্টা করছে এমন আশঙ্কা কর্মকর্তা কর্মচারীদের মাঝে।

জানা গেছে, শুরুতে শিরিন আক্তার, শামীম, সুমনসহ তিনজন পার্টনার থাকলেও তাদের মধ্যে দু’জনকে বাদ দিয়ে শিরিন আক্তার তিনি ওই হাসপাতালের মালিক বনে যান। তার মালিকানায় চলতে থাকে ডাক্তারবিহীন অবৈধ কার্যক্রম। মহিলাদের ডেলিভারীরসহ বিভিন্ন অপারেশন করা হয় নার্সদের মাধ্যমে। হাসপাতালের ভিতরেও রয়েছে ড্রাগ লাইসেন্স বিহীন ফার্মেসী। আর হাসপাতালের প্যাথলোজি বিভাগটিও চলতে থাকে কোন প্যাথললিষ্ট ছাড়াই। এভাবে বিভিন্ন প্রতারণা ও সঠিকভাবে সেবা না পেয়ে ধীরে ধীরে কমতে থাকে রোগীর সংখ্যা। আবার হাসপাতালটিতে শেয়ার পার্টনারদের বিরোধের জেরে প্রতিষ্ঠানটি এখন দেউলিয়া হওয়াার পথে।

ভবনের বাড়ির মালিক মো. ফিরোজ বলেন, দীর্ঘদিন থেকে ওই হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অগ্রীম ভাড়ার চুক্তি ও মেয়াদ শেষ হওয়া, বিদ্যুত বিল বাবদ প্রায় ১লক্ষ ১৫ হাজার টাকা এবং এগারো মাসের ভাড়া বাবদ প্রায় ৯লক্ষ টাকা বকেয়া রয়েছে। এসব বকেয়া টাকা পরিশোধ না করতে পারায় গত ৬ মাস আগেই সাভার গ্রীন হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কর্তৃপক্ষকে বাড়ি ছেড়ে দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সাভার গ্রীন হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শিরিন আক্তারেকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞসা করা হলে তিনি বলেন- আমি হাসপাতাল ছেড়ে দেইনি তাই ওটিবয় সুমন, নার্স ও কোন কর্মচারীদের জানানো হয়নি। তিনি বলেন ষ্টাফ ও কর্মচারীরা কিছু টাকা পয়সা পাবে। তা সময়মত পরিশোধ করে দিবো।

হাসপাতালের কর্মরত ওটিবয় সুমন জানান, আমার বেতনের ৪৫ হাজার টাকা পাওয়া যাবে। তিনি আরো বলেন ৩ মাসের টাকা এখনো তাকে বুঝিয়ে দেয়নি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

সাভার গ্রীন হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার এর সিনিয়র নার্স ঝর্ণা আক্তার জানান- দীর্ঘ আট মাসের বেতন বাবদ প্রায় ৫০ হাজার টাকা ও আরো দু’জনের প্রায় ১লক্ষ ১০ হাজার টাকাসহ আরো কয়েকজন কর্মচারীরা  হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নিকট বেতন পাবে। এমনকি শামীম নামে এক ব্যক্তি ৫ লক্ষ টাকার মতো তার লেনদেন বাকি রেখেই  হাসপাতালটি বন্ধে পায়তারা করছেন কর্তৃপক্ষ।

বৃহস্পতিবার সকালে তারা ডিউটিতে আসলে বাড়িভাড়ার দেওয়া হবে এমন নোটিশ দেখতে পায় তারা। হাসপাতালের সিনিয়র নার্স ঝর্ণা আরো জানান, বেতন ভাতা না পেলে আমাদের মানবতার জীবন যাপন পালন করতে হবে। এ বেতন ভাতা পরিশোধর জন্য তিনি জোর দাবি জানান হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে।

হাসপাতালের কর্মচারীরা প্রশাসন, সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিকট বেতন ভাতা উদ্ধার করে তাদের মানবেতর জীবন থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

এব্যাপারে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কর্মকর্তা আমজাদুল হক বলেন, হাসপাতালের কর্মরত লোকজনের বেতন ভাতা না দিয়ে হাসপাতালটি বন্ধ করে দিলে এমন ধরনের কোন অভিযোগের সত্যতা পেলে প্রশাসনিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উল্লেখ্য, প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ নতুন নয়। তাদের বিরুদ্ধে দালালের মাধ্যমে জিম্মি করে রোগীদের হয়রানী, ভুয়া ডাক্তার দিয়ে চিকিৎসা ও রোগীদের ফাঁদে ফেলে কৌশলে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ ছিল শুরু থেকেই।